পৃষ্ঠাটি লোড হচ্ছে . . .

দয়াকরে অপেক্ষা করুন।

"লোডিং সময়" আপনার ইন্টারনেট স্পিড এর উপর নির্ভরশীল।

সহায়িকা

বিস্তারিত তথ্য


(ক) ১৯৫০ সালে (খ) ১৯৪৮ সালে
(গ) ১৯৫৪ সালে (ঘ) ১৯৫৬ সালে
close

১৯৫০ সালে


পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এই আইনে পূর্ববাংলায় জমিতে খাজনা সংগ্রাহক ও অন্যান্য স্বার্থধারীদের তালুক অধিগ্রহণের বিধান, তালুকে প্রজাদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত আরও অন্যান্য বিষয়ের আইনগত সম্পর্ক সংজ্ঞায়িত করার বিধান রয়েছে। আইনটি পাশের আগে এদেশের কৃষিসংক্রান্ত আইন বলতে প্রধানত ছিল ১৭৯৩ সালের বঙ্গীয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবিধান ও বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫। বঙ্গীয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবিধান সরকারকে নির্ধারিত অঙ্কের রাজস্ব নিয়মিত পরিশোধের শর্তে জমিদারদেরকে জমির মালিক করে দেয় আর তার সঙ্গে তারা তাদের অধীন বন্দোবস্তধারীদের কাছ থেকে খাজনা আদায়েরও অধিকারী হয়। শেষোক্ত পক্ষ আবার জমিতে তাদের অধস্তন স্বার্থধারী সৃষ্টি করার অধিকারী হয়। ১৭৯৩ সালের বঙ্গীয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবিধান একশ্রেণির জমিমালিক অভিজাত গোষ্ঠীর জন্ম দেয়। এদের সম্পর্কে ব্রিটিশদের প্রত্যাশা ছিল যে, এরপর তারা ব্রিটিশ শাসক কর্তৃপক্ষের অনুগত থাকবে। এছাড়া বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন ঊর্ধ্বতন ভূমি মালিকদের সঙ্গে প্রজা বা রায়তের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অধিকার ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে।

সময়ের বিবর্তনে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের উপযোগিতা ফুরিয়ে গেলে ভূমি সংস্কারের দাবি ওঠে। এর পরিণামে ১৯৩৮ সালে স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউডের সভাপতিত্বে এক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভূমিসংস্কার কমিশন গঠিত হয়। আরোপিত অন্যান্য দায়িত্বের সঙ্গে স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউডের অন্যতম কাজ ছিল প্রকৃত জমি-চাষিকে সরাসরি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত করার জন্য জমিতে সকল ঊর্ধ্বতন স্বার্থধারীর স্বার্থ অধিগ্রহণ বাস্তব অর্থে সরকারের জন্য বাঞ্ছনীয় হবে কি-না সে সম্পর্কে সরকারের কাছে প্রতিবেদন পেশ করা। সরকার ভূমি রাজস্ব কমিশনের সুপারিশ বিবেচনায় আনে এবং বাস্তবায়নের জন্য ১৯৪৭ সালের ১০ এপ্রিল ব্যবস্থাপক পরিষদে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন উত্থাপন করে। তবে ভারত বিভাগের কারণে এ বিষয়ে আর কোন অগ্রগতি হয় নি। দেশ বিভাগের পর পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিল প্রণয়ন করে ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চ তা প্রকাশ করা হয়। তারপর এই বিলটিকে আইন পরিষদের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিলটি পাস হওয়ার পর ১৬ মে ১৯৫১ সালে বিলে প্রয়োজনীয় অনুমোদনমূলক সম্মতি পাওয়া যায়।